কি লুকিয়ে রয়েছে ডিপ ওয়েব এর অন্তঃগহবরে ???

ইন্টারনেটের গভীরতায় লুকোনো এক অজানা জগতের নাম ডিপ ওয়েব। ডিপ ওয়েব নামকরনের মূল কারণ হচ্ছে সাইবারস্পেসে এর অসীম গভীরতা যাকে মহাকাশের ব্ল্যাকহোলের সাথে তুলনা করা যায়। আন্তর্জাতিক দৈনিক “দি গার্ডিয়ান” এর মতানুসারে আপনি গুগল এর মত জায়ান্ট সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেও ইন্টারনেট জগতের মাত্র ০.০৩% শতাংশের দেখা পান, বাকিটা রয়ে যায় আপনার দৃষ্টির অন্তরালে। ঘটনাটি কিন্তু বড়ই রোমাঞ্চকর। ডিপ ওয়েব সম্পূর্ণ ভাবে অদৃশ্য এক জগত যেখানকার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে চাইলে আপনাকেও হয়ে যেতে হবে অদৃশ্য, যার না নাম আছে না রয়েছে ঠিকানা, যে ধরা ছোঁয়ার বাইরে এক অদৃশ্য সত্তা। এক আলাদা অস্তিত্ব যার উপস্থিতি শুধুমাত্র অনুভব করা সম্ভব তাদের পক্ষেই যারা এই জগতের অভিজ্ঞ বাসিন্দা।

কিভাবে ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করা যায়ঃ

ডিপ ওয়েবের নিষিদ্ধ জগতে যে কেউ চাইলেই প্রবেশ করতে পারবে না। আগেই বলেছি গুগল বা ফায়ারফক্স এর মত সার্চ ইঞ্জিন এর সহায়তা নেয়া এখানে পুরো মাত্রায় হবে একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করতে চাইলে জানা থাকা চাই ডিপ ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন অথবা ডিপ ওয়েব ব্রাউজার সম্পর্কে। ডিপ ওয়েবে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার হচ্ছে ‘Tor’। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসের একটি সমীক্ষায় দেখা যায় জনসাধারণের মাঝে Tor ব্রাউজার ব্যপক ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ও তা ডাউনলোড করছে এমন মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাধারণ জনসাধারনের উপর ও তাদের ওয়েবে আদান-প্রদান করা তথ্যের উপর মাত্রাতিরিক্ত নজরদারি করাকে দায়ী করা হয়। সে সময় গোয়েন্দা সংস্থার ব্যাক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ ও ওয়েব ট্রাফিকের উপর নজরদারি জনসাধারণকে ডিপ ওয়েব ব্যবহারের প্রতি নির্ভরশীল করে তোলে। নিজেদের গোপনীয় তথ্য সংরক্ষন খুব ভালোভাবেই করা যাচ্ছিল ডিপ ওয়েবের অদৃশ্য মায়াজাল ব্যবহার করে।

আপনি কি সার্চ করছেন, আপনার আই পি অ্যাড্রেস কি, আপনার জিও লোকেশন সবকিছুই আন্ট্রেসেবল। আপনাকে খুঁজে বের করা অসম্ভবের কাছাকাছি।প্রত্যেক মানুষের কিছু কমন সার্চ হ্যাবিট রয়েছে যা ফরেনসিক এক্সপার্ট, অথবা আইটি এক্সপার্টরা প্রোফাইলিং করতে পারে। যেভাবে গুগল বা ফেসবুক আপনার ইন্টারেস্ট বলে দেয় যা আপনার কুকি হিস্টোরিতে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু ডিপ ওয়েবে ‘Tor’ ব্রাউজার ব্যবহার করে  আপনি সচরাচর কি সার্চ করেন তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই যারা এই ডিপ ওয়েব ও ‘Tor’ ব্রাউজার সম্পর্কে জানে তারা এটি ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

  • মাথায় রাখুন যখন আপনি ডিপ ওয়েবে যাবেন আপনার প্রথম প্রয়োজন ‘Tor’ ব্রাউজার।
  • নর্মাল ব্রাউজার অ্যাড্রেস যেভাবে ব্যবহার করেন একই ভাবে ডিপ ওয়েবের ব্রাউজার অ্যাড্রেস খুঁজে বের করতে পারবেন। খালি টাইপ করতে হবে যা আপনি খুঁজছেন আর আপনার সামনে চলে আসবে অগনিত ডিপ ওয়েব সাইটস।
  • ডিপ ওয়েবের সকল সাইটস এর ডোমেইন .onion ডোমেইন নামে পরিচিত। অর্থাৎ ওয়েবসাইট প্রোভাইডার ও ইউজার উভয়ই নাম পরিচয়হীন, অজ্ঞাত। যাদের ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব।
  • কিছু ডিপ ওয়েব .onion সাইটস

কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে ডিপ ওয়েবঃ

বারে বারে অদৃশ্য জগত অদৃশ্য মানব এই সব শব্দের ব্যবহারে আপনার যদি মনে হয় ডিপ ওয়েব জগত টি বেআইনি কাজ ও অপরাধের আঁতুড় ঘর,আপনাদের ধারনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। অপরাধ প্রবণতা ও বে- আইনি পন্যের অবাধ বিচরণ রয়েছে ডিপ ওয়েবের অন্ধকার জগতে। উদাহরণ হিসেবে চাইল্ড পর্ণ গ্রাফি ভিডিও, ড্রাগস এর ব্যবসায় এর কথা উল্লেখ করা যায়।তবে প্রযুক্তির ভালো ব্যবহার ও কিন্তু সম্ভব। সত্যি কথা বলতে কি ডিপ ওয়েব আপনার জ্ঞান ভান্ডার ও অভিজ্ঞতাকে এমন ভাবে সমৃদ্ধ করবে যার চিহ্ন আপনি পাবলিক ওয়ার্ল্ড ওয়েব এ কোন দিন ও  খুঁজে পাবেন না।

ডিপ ওয়েব

চলুন তবে জানি কিসের খোঁজ পেতে পারি আমরা ডিপ ওয়েবে-

১।মেইল দিয়ে অর্ডার করুন মারিজুয়ানাঃ

গাঁজার নৌকা পাহাড়তলি যায়- এই অদ্ভুত গানটি তো শুনেছেন? ঠিক তেমনই আপনায় গাঁজার রাজ্যে স্বাগতম জানাতে পারে ডিপ ওয়েব। কোন লুকোচুরি নেই, নেই ঠাণ্ডার মাঝে ঝুঁকি নিয়ে কোন ড্রাগ ডিলারের জন্য অপেক্ষা করার ঝামেলা, নেই কোন দর কষাকষি বা নিম্নমানের আশংকা। অর্ডার করুন ঘরে বসে নিজের পছন্দমত পরিমানে নির্দিষ্ট দামে। পেয়ে যান গোল্ডেন নাগেট নামে কুখ্যাত এই মাদক,আর ভাবছেন আপনার হাতে কি করে পৌঁছাবে? পৌঁছে যাবে কোন নির্জন যায়গায় ড্রপ আউট কুরিয়ারের মাধ্যমে অথবা ডি এইচ এল এর মত কুরিয়ার সার্ভিসে( অবশ্যই ভ্যাকুয়াম সিলড প্যাকে বহু প্যাকিং এর ছদ্মবেশে)। আপনার কাছে পৌঁছে যাবে ড্রপ আউট পয়েন্টের জিপিএস লোকেশন। ভাবছেন কিভাবে পেমেন্ট করবেন ডিপ ওয়েবে? তার জন্য ব্যবহৃত হয় বিট কয়েন পলিসি।এটি একটি আনট্রেসেবল অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি। কিভাবে তা থেকে ক্যাশ আউট করা হয় তার বিস্তারিত আর না বলি।(মারিজুয়ানা নিয়ে বিস্তারিত)

চিত্রঃ ডিপ ওয়েব মারিজুয়ানা মেইল অর্ডার সাইট

২। সিল্ক রোডঃ

বড় বড় অনলাইন মার্কেট আমাজন বা ই -বেয় এর সাথে তো কম বেশি আপনারা সবাই পরিচিত। ঠিক তেমনি  ডিপ ওয়েব এর বিশাল অনলাইন ড্রাগ ও কেমিক্যাল মার্কেট হচ্ছে ‘সিল্ক রোড’। যে কোন কেমিক্যাল বা ড্রাগ অর্ডার করুন, পেমেন্ট করুন বিট কয়েনে, কিছুদিনের মধ্যে আপনার হাতে পৌঁছে যাবে আনট্রেসেবল প্যাকেজ। শুধু ড্রাগ বা ক্যামিকেল নয়, সিল্ক রোডে পাওয়া যায় না এমন কিছুর সম্ভবত অস্তিত্ব নেই। অদৃশ্য ক্রেতা-বিক্রেতার সবচেয়ে জনপ্রিয় মিলনস্থল হচ্ছে সিল্ক রোড। এখানে পন্য বিনিময়ের সাকসেস রেট ৯৭% শতাংশ। যে কোন জিনিস প্রাপ্তির জন্য এরা এমন একটি সিস্টেম ডেভেলপ করেছে যে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটা কিংবদন্তীর রূপ ধারন করেছে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শুরু হওয়া এই ডিপ ওয়েবসাইট আজ পর্যন্ত কোনভাবেই আইনের আওতায় অথবা নিয়ন্ত্রনাধীনে আসেনি। যেখানে একে বলা হচ্ছে ড্রাগের সবচেয়ে বড় মার্কেট।

৩। ভাড়া করতে চান খুনিঃ

ভাবছেন ভুল শুনলেন নাকি? না আপনি ঠিকই শুনেছেন। ডিপ ওয়েবে খুনিও ভাড়া করা যায়। আপনি কারো বেইমানিতে অসন্তুষ্ট। আপনার গার্ল ফ্রেন্ড বা স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত, কোন সাংবাদিক অথবা ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছেন। জনাব আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন যার নাম ডিপ ওয়েব সাইট। আপনার টাকা আপনাকে দেবে ক্ষমতা। শুনতে নাটকীয় বা ভয়াবহ শুনালেও এসবই সত্যি। কোন কাল্পনিক গল্পের অস্তিত্ব এখানে নেই। কন্ট্রাক্ট কিলিং এর সবচেয়ে

দামী ডিপ ওয়েবসাইটের নাম White Wolves ও C’Thulhu

কেমন করে খুনী ভাড়া হয় (দেখুন চিত্রে)

৪। BUTTERY BOOTLEGGING:

BUTTERY BOOTLEGGING এমন এক অদৃশ্য মানব দ্বারা সৃষ্ট যাকে ডিপ ওয়েবে সবাই চিনে DANGLER নামে। হাস্যকর হলেও সত্যি DANGLER চুরি-ডাকাতির ব্যপারে এক অসামান্য প্রতিভা। আপনি এমন কিছু পেতে চাইছেন যা কেনা সম্ভব নয় বা সেটি পাওয়াও রীতিমত অসম্ভব ঠিক সেটি চুরি করে হোক বা ডাকাতি করে হোক আপনার হাতে পৌঁছে দিবে। তাহলে ডিপ ওয়েবে চুরি ডাকাতির ও অনেক পেজ আপনি খুঁজে পাবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি Dangler কে কিছু চুরি করার নির্দেশ দিয়ে পরবর্তীতে পাওনা পরিশোধ না করেন তবে সেই চুরি করা পণ্যটি তার লিস্টে দেওয়া থাকবে যেন অন্য যে কেউ সেটা নিতে পারে। এই পর্যন্ত তার চুরি করা পণ্যের লিস্ট ও তার অর্জন এর ইতিহাস দেওয়া আছে তার ডিপ ওয়েব সাইটে যা যথেষ্ট জনপ্রিয়। তবে মনে রাখবেন DANGLER কে ভাড়া করতে চাইলে যথেষ্ট পরিমান বিটকয়েন রাখতে ভুলবেন না।

চিত্রঃ DANGLER এর BUTTERY BOOTLEGGING পেজ

৫। মানুষের উপর গবেষণাঃ

ভাবতেও শিউরে উঠতে হয় যে ডিপ ওয়েবে এমন সাইট ও রয়েছে যেখানে মানুষের উপর গবেষণার কথা বলা হয়ে থাকে। সাধারনত ছিন্নমুল মানুষের উপর এইধরনের মেডিকেল এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়ে থাকে। এই সকল মানুষের খোঁজ করার কেউ নেই তাই গবেষণায় এদের মৃত্যু হলেও কারো কিছুই এসে যায় না। এটি এক পারফেক্ট ক্রাইম ঠিক যেন এক পৈশাচিক

গল্প তবু বাস্তব। রাস্তা থেকে তুল আনা এসব মানুষ হয় স্যাডিজম এর শিকার। কি বলবো এদের সম্পর্কে, কি বলবো তাদের যারা এই ধরণের গবেষণায় লিপ্ত? একটি নমুনা দেখুন তাদের বিজ্ঞাপনেরঃ-

গবেষকরা যেভাবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেঃ

আমরা সবাই মেডিকেল পার্সোনেল। আমাদের টিমে রয়েছে ৩ জন নার্স, ৬ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী, ২ জন ইন্টার্ন ও ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আমরা আমাদের অবসর সময়ে গবেষণা চালাই। আমাদের টেস্ট সাবজেক্ট নির্ধারিত সেলে বন্দী অবস্থায় থাকে, প্রয়োজন অনুসারে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। পুষ্টি গুন বিচারের প্রশ্ন ওঠে না কারণ কেউই তারা বাঁচবে না। ভাবুন এই মেধাবীদের নিয়ে। আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

তারা যেভাবে টেস্ট রেজাল্ট প্রকাশ করেঃ

এই বিতর্কিত সাইটের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও বিবেক বোধ ও মনুষ্যত্ব বিহীন এদের সম্পর্কে আমি কিছু বলতে বা ভাবতে ও চাই না। এরা মূর্তিমান দুঃস্বপ্ন।

অস্ত্র কিনতে চাইছেনঃ

ডিপ ওয়েবের একটি সাইটের নাম ইউরো আর্মস যেখানে যে কোন অস্ত্রই চান না কেন খোঁজ পাবেন। অর্ডার করলে তা পৌঁছেও যাবে আপনার দরজায়। অস্ত্রের সহজ লভ্যতা কি না ঘটাতে পারে শুধু ভাবুন একবার। তবে এই সার্ভিসটি বর্তমানে শুধু ইউরোপে প্রচলিত হলেও খুশি হওয়ার কিছু নেই  যুক্তরাষ্ট্রে ও

খুব সহজেই অস্ত্র পাওয়া যায়। তাই অনলাইন ভিত্তিক অস্ত্রের মার্কেট এর চাহিদা অন্তত যুক্তরাষ্ট্রে নেই।

ইউরো আর্মস এর মত সাইট অবশ্যই নিরাপত্তায় হুমকি স্বরূপ।

চিত্রঃ ইউরো আর্মস ডিপ ওয়েব সাইট

৭। লাগবে ক্রেডিট কার্ড ইনফরমেশনঃ

অনলাইনে কেনা কাটায় সবচেয়ে আগে প্রয়োজন পড়ে একটি ভ্যালিড ক্রেডিট কার্ড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বারের।  ভাবুন আপনি ছুটি কাটাতে গিয়েছেন, আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে জানলেন আপনার কার্ডে যথেস্ট পরিমাণে ব্যালেন্স নেই। কারন অন্য কেউ আপনার কার্ড ব্যবহার

করে টাকা তুলে নিয়েছে। কার্ড ক্লোনের এই ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।

এই ধরনের ডিপ ওয়েব সাইট যারা কার্ড ফ্রডের সাথে যুক্ত, ডিপ ওয়েবে যাদের বিশেষ সুনাম রয়েছে তেমন একটি .onion  ডিপ ওয়েবসাইটের নাম আটলান্টিক কার্ডিং। তাদের প্রিমিয়াম সার্ভিসে রয়েছে ইনফিনিট কার্ড ইনফরমেশন। যত বেশি মূল্য তত বেশি বিট কয়েন। জেনারেল সার্ভিস পাবেন ৮০$ ইউএস ডলারে। আর কি লাগে?

৮। বেটিং/ ম্যাচ ফিক্সিং স্পটঃ

বাজী ধরতে চাইছেন বড় অংকের? ভাবছেন ম্যাচ ফিক্স করবেন? তার জন্যেও রয়েছে ডিপ ওয়েব সাইট।

ঘোড়া দৌড় থেকে শুরু করে যাবতীয় ম্যাচ ফিক্সিং এর জন্যে বলে গড়ে উঠেছে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট। কেমন করে কাজ করছে তারা তা যারা জড়িত তারাই বলতে পারবেন তবে লেনদেনের মাধ্যম আবারও সেই বিট কয়েন।

৯। লুকোনো WIKI:

এতক্ষন ডিপ ওয়েব .onion সাইটস সম্পর্কে যা বলেছি তা বিশাল আইসবার্গের ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। গুপ্তধন তো লুকিয়ে রয়েছে Hidden Wiki তে। ডিপ ওয়েব সম্পকে জানা অজানা সব রয়েছে এই ডিপ ওয়েব পোর্টালে। উইকিপিডিয়া যদি হয় তথ্য ভাণ্ডার তবে  Hidden Wiki  ডিপ ওয়েবের তথ্যের মহা সমুদ্র। এতক্ষন ধরে যা বলেছি তা এই ডিপ ওয়েব পোর্টাল থেকেই সংগ্রহ করা।(বিস্তারিত)

ডিপ ওয়েবে বিচরন করা এক সাইকোর তথ্য তুলে ধরছি যার কথা Hidden Wiki তে উল্লেখিত আছে। বড়লোক এক ইউরোপীয় ডাক্তার ডিপ ওয়েবে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তিনি লাইভ সেক্স টয় বিক্রি করেন। তিনি সত্যি জ্যান্ত মানুষ বিক্রি করছিলেন।তিনি পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অনাথ আশ্রম ঘুরে এতিম মেয়ে শিশুদের সংগ্রহ করে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলতেন,তাদের দাঁত উপড়ে নিতেন, সার্জারি করে তাদের অন্ধ বোবা কালায় রূপান্তরিত করতেন, তাদের গোপনাঙ্গ কে সঙ্কুচিত করতেন এবং মানব সেক্স ডল  হিসেবে বিক্রি করতেন। তাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিয়ে লুপ তৈরি করে সো পিস হিসেবে ব্যবহার করতেন। ভেবে দেখুন আমার মনে হয় রাতের ঘুম হারাম করতে এই একটি রেফারেন্স যথেষ্ট। বিশ্বাস করুন নৃশংসতার এই ঘটনা আমি মিষ্টি ভাষায় লিখছি, আসল বিবরন আরও ভয়াবহ।

চিত্রঃ The Hidden Wiki

১০। বর্তমান পরিস্থিতিঃ

যদিও বলা হয়েছিলো যে ডিপ ওয়েবে সহজে কেউ ঢুকতে পারে না। তবে আইন রক্ষাকারী সংস্থা একটু হলেও ডিপ ওয়েবে নাক গলাতে সমর্থ হয়েছে যার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৪ সালের আগস্টে যে সময় প্রায় ৫০% শতাংশ লুকোনো ডিপ ওয়েবসাইট অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলো যা ছিলো  আয়ারল্যান্ড এর এক হোস্টিং অপারেশনের ফলাফল।

একই  ধরণের আরেক অপারেশনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গ্রেফতারের শিকার হয় এক আইরিশ এরিক ওয়েন মারকুইস যাকে ডিপ ওয়েব ব্যবহার করে শিশু পর্ণ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

চিত্রঃ গ্রেপ্তারকৃত মারকুইস

Reddit বলেছে মারকুইস ডিপ ওয়েবের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন যে নাকি ফ্রীডম হোস্টিং নামক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রতিষ্ঠাতা যা ডিপ ওয়েব এর অনেক .onion ওয়েবসাইটকে হোস্টিং সুবিধা দিয়েছে। এই কাজে সারা ইউরোপ জুড়ে ৫৫০টি সার্ভার ব্যবহৃত হয়েছে যা যে কাউকে ডিপ ওয়েবসাইটে স্পেস ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে।

মারকুইসের পরিবার তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বলে সে তো শুধুমাত্র ওয়েব স্পেস ভাড়া দিয়েছে। কোন অপরাধ বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে সে যুক্ত নয়।

জানা যায় এফবিআই এর টেকনিক্যাল টিম টর ওয়েবসাইট হ্যাক করে মারকুইস কে ট্র্যাক করে গ্রেপ্তার করে। এই হ্যাক এর কাজে ব্যবহৃত হয় ম্যালওয়্যার যা পিএইচপি, মাইএস্কিউএল, অ্যাপাচি দিয়ে চালানো সফটওয়্যার কে হ্যাক করতে পারে যার কারনে ফ্রীডম হোস্টিং এর সার্ভার কে হ্যাক করা সম্ভবপর হয়।

ঘটনার পিছে রটনা যাই হোক না কেন এখনো পর্যন্ত ডিপ ওয়েব অজানা রহস্য হয়েই রয়েছে যার প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি ভাঙা এত সহজ নয়।