ফিউসিয়া | Fuchsia | গুগলের নতুন অপারেটিং সিস্টেম | কি থাকছে এতে?

বার গুগল আনতে চলছে নতুন অপারেটিং সিস্টেম—যদিও এটা নিয়ে তারা অফিসিয়ালি কোন তথ্য দেয়নি কিন্তু তারা এটা জানাচ্ছে—তারা একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম বানাচ্ছে আর সেটার নাম হচ্ছে ফিউসিয়া (Fuchsia)। তাছাড়া সবথেকে বড় কথা হচ্ছে এটা হতে যাচ্ছে দুইটা কার্নেলের সমন্বয়ে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, সম্পূর্ণ নতুন এই অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে।

ফিউসিয়া নামকরণে উদ্দেশ্য

ফিউসিয়া নামকরণে উদ্দেশ্য

এর নাম দেবার কারণের আগে আপনাদের জানতে হবে, ফিউসিয়া আবার কি? ফিউসিয়া আসলে একটি রং, যেটা পিঙ্ক+বেগুনি রঙ এর সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু এর সাথে অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক কি? হ্যাঁ, আছে—কেনোনা তারা ২টি কার্নেলের সমন্বয়ে বানাতে যাচ্ছে এই অপারেটিং সিস্টেমটি। তাছাড়া গুগল তাদের সোর্স সাইটে এটা এই ভাবে উল্লেখ করেছে “পিঙ্ক+বেগুনি==ফিউসিয়া (নতুন অপারেটিং সিস্টেম)“। তাই পরিশেষে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, ২টি কার্নেল ব্যবহার করার জন্যই তারা এই নামটি দিয়েছেন।

কি কি কার্নেল ব্যবহার করা হয়েছে এতে?

কার্নেল

ফিউসিয়া অপারেটিং সিস্টেমে কার্নেল (কার্নেল কি?) হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ম্যাজেন্টা (Magenta) ও এলকে (L)ittle (K)ernel। এবার আসুন জানি ম্যাজেন্টা ও এলকে জিনিস ২টা আসলে কি? এলটি হচ্ছে ছোট কার্নেল (Little Kernel=LK) এটাকে ব্যবহার করা হয় ছোট খাটো কোন কাজের জন্য—আর অন্য অ্যাপস গুলোর সাথে সমন্বয় করানোও এর কাজ। তাছাড়া বুটলোডার হিসাবেও খুব ভাল কাজ করে। এর ওজন মাত্র ২০-৩০ কেবি। এটি একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার—যা https://github.com/littlekernel/lk থেকে পাওয়া যাবে।

এবার আসি ম্যাজেন্টা নিয়ে, ম্যাজেন্টা হচ্ছে মূলত কার্নেল অবজেক্ট, আইফোন ৫.০ তে বাইনারি কম্পিলিমেন্ট হিসাবে কিছু জায়গায় এটাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ইউজার ইন্টারফেস ও অত্যধুনিক ডিজাইনের জন্য বিখ্যাত। শুধুমাত্র এই কারনেই ১ জিবির উপরে ওজন হয়ে উঠেছে এটার। তাই বলাই যায় এটা হচ্ছে ফার্স্ট ক্লাস ইউজার মুড কার্নেল। তাছাড়া ম্যাজেন্টাকে এমন সিস্টেমের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যাতে অত্যাধিক র‍্যামের প্রয়োজন পড়ে (বহু গিগাবাইট র‍্যাম)।

ম্যাজেন্টা ও এলকে ব্যবহারের পেছনে কারন

ম্যাজেন্টা ও এলকে ব্যবহারের পেছনে মূল কারন হচ্ছে নতুন এক যুগের সূচনা করা। কেননা এর আগে ২টি কার্নেল একই সাথে একই ডিজাইজে ব্যবহার করা হইনি। তাছাড়া এখন ব্যবহারকারীরা চায় ফাস্ট ডিভাইজ, স্টাইলিশ ইউজার ইন্টারফেস, ভাল ডিজাইন ও নিরাপত্তা। এইসব কারণেই গুগল ২টা কার্নেল একসাথে করার পরিকল্পনা করেছে। এলকে ব্যবহার করা হইয়েছে মূলত ডিভাইজটাকে ফাস্ট রাখার জন্য ও বেশি টাস্ক হলে যেন ডিভাইজ হ্যাং না করে। কিন্তু এটা ছাড়া আরো একটা বড় সমস্যা আছে সেই জন্যই তো ফ্রীআরটস (FreeRTos), ট্রেটক্স এর মত ভাল মানের ইন্টারফেস যুক্ত কার্নেল ছেড়ে এই কার্নেল ব্যবহার করলো। আসল ব্যপার হল অন্য সব কার্নেল গুলোতে টাস্ক ও র‍্যাম লিমিটেড কিন্তু এলটিতে সেটা থাকছে না সব আনলিমিটেড।

ম্যাজেন্টা ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হল ইউজারকে খুব অত্যাধুনিক ইন্টারফেস ও ডিজাইন দেওয়া। তাছাড়া এটা হচ্ছে ওপেন সোর্স কার্নেল। যেহেতু ম্যাজেন্টা বানানো হয়েছে আধুনিক ও ফাস্ট মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটারের কথা চিন্তা করে তাই ম্যাজেন্টাকে ব্যবহার করে গুগল নতুন কিছু উপহার দেবার চেষ্টা করছে। সবথেকে বড় কথা মেজেন্ডা ব্যবহার করতে গেলে আপনার ডিভাইজে একটু বেশি র‍্যাম ব্যবহার করতেই হবে। তাই আমরা বলতেই পারি যে আধুনিক সুপার ফাস্ট কম্পিউটিং ও আধুনিক ডিজাইন সব কথা ভেবেই ২টি কার্নেল একই সাথে ব্যবহার করা হয়েছে।

ফিউসিয়াতে যে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়েছে

প্রোগ্রাম

ফিউসিয়াতে মূলত কি ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে গুগল এখনো কিছু বলেনি। তবে এটা বোঝা যাচ্ছে গুগল একটা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। কেননা তারা তাদের সোর্স সাইটে ফিউসিয়ার জন্য অনেক গুলো কোড ল্যাঙ্গুয়েজ এর নাম বলেছে। JSON, logging, SSL, Google’s Go programming language, clang, LLVM তাছাড়া নাকি ইউনিক্স এর লেটেষ্ট ৭ নং ভার্সন ইউজ করবে। যদি তারা এটাই করে তবে তো বলার অপেক্ষা রাখে না এটা হতে যাচ্ছে খুব যুগান্তকারী পদক্ষেপ ডেভেলপারদের জন্য। তারা এটাকে ফ্লাটারের (Flutter) সাথেও সংযুক্ত করাবে বলে বলেছে গুগল। (ফ্লাটার হল আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারদের প্রোজেক্ট—এই প্রোজেক্টটি ডেভেলপারদের হাই পারফর্মেন্স, দক্ষ মোবাইল অ্যাপস তৈরি করতে সাহায্য করে, তাও আবার সিঙ্গেল ডাটাবেজ থেকে)। সুতরাং এটা বলা যেতেই পারে এবার ডেভেলপাররাও হয়তো কিছুটা খুশিটা হবে।

ফিউসিয়া কি অ্যান্ড্রয়েড ও লিনাক্সের বিকল্প হতে পারবে?

ফিউসিয়াকে অ্যান্ড্রয়েডের সাথে এখনই তুলনা করতে গেলে চলবে না। কেননা আমাদের বুঝতে হবে, এটা একটা প্রকল্প, তাছাড়া আর কিছুই না। গুগল শুধু তাদের চিন্তার কথা বলেছে। তাছাড়া এতে আশা হতো হবারও কিছু নাই–কেননা গুগল যে খুব আট ঘাট বেধে নামেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তারা যেসব আশা দেখিয়েছে তা যদি সফল হয় তবে এটা এঅ্যান্ড্রয়েডকে ছাপিয়ে যাবে এটা বলায় যাই। এখন শুধু দেখার পালা গুগল আমাদের ভবিষ্যৎ এ কি উপহার দিতে পারে।

শেষ কথা

সবশেষে এটাই বলা যাচ্ছে যে গুগল যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেটা শুধু একটা প্রকল্পই না একটা আর্টও বটে—এটা হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেমের আর্ট। হয়তো সেই ১৯৯০ এর লিনাক্স এর ইতিহাস সৃষ্টির পরে নতুন একটা ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবে গুগল। কি হতে পারে ফিউসিয়ার ভবিষ্যৎ? আপনার মতামত প্রকাশ করতে ভুলবেন না কিন্তু!