সিটিসেল বন্ধ এবং কয়েকটি প্রশ্ন

বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল কোম্পানি সিটিসেল বন্ধ! সিটিসেল বন্ধ কেন হয়েছে? সেই কারণ খোঁজা আমার কাজ না। সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা ছিল, সিটিসেল দিতে পারে নাই, তাই সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। সিটিসেলের কাছে চাকরিজীবীদেরও পাওনা রয়েছে। বেতন পাওনা আছে এবং চাকরি করে গেলে আরো কছু আইনগত পাওনার জন্ম হয়, সেই পাওনাগুলোও পাওনা হিসাবে বাকী আছে। এখন প্রশ্ন হলো, “এইসব পাওনার কি হবে?”

একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বলেছেন “চাকরিজীবীরা সময়মতো আসে নাই, আসলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারতো, এখন কিছু করার নেই। এই সময়মতো শব্দটি বোঝা খুব মুশকিল। সময় মতো বলতে কোন সময়টি বোঝানো হয়েছে তা পরিষ্কার করলে ভালো হতো। একটা কোম্পানি আইনগত সত্ত্বা হিসেবে বিবেচিত হয়। কোম্পানিকে আইন মেনে ব্যবসা করতে হয়। আইন মেনে চাকরি দিতে হয় এবং চাকরি অবসান ঘটাতে হয়।

সিটিসেলের প্রেক্ষাপটে আইন কী বলে? সরকারের দায়িত্ব কী চাকরিজীবীদের পাওনা নিশ্চিত করণে? মালিকের দায়িত্ব কী? কয়েকশ চাকরিজীবী সিটিসেলে অনিশ্চয়তার মধ্যে কর্মরত থাকাকালীন সিটিসেল বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিজীবীরা বেতন কয়েক মাস যাবত পাচ্ছিলো না! তারপরও একটা স্বপ্ন ছিলো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। গুঞ্জন ছিল বিদেশি বড় বিনিয়োগকারী আসবে এবং একদিন সুদিন আসবে।

আজ সবই অনিশ্চয়তার মধ্যে। স্বপ্ন তো ভেংচি কাটছে। বিদেশী বিনিয়োগকারী আসবে এটা রূপকথা। প্রাপ্য বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনাদি আদৌ পাওয়া যাবে কী? এটা শুধু একটা প্রশ্ন। সবচেয়ে দুর্বল প্রশ্নও বোধকরি। বেতন ভাতাদি কার কাছে চাইবে চাকরিজীবীরা? সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছে উনাদের কিছু করার নাই। তাহলে কী মালিকের কাছে চাইবে? চাইলেই যে দিবে এর নিশ্চয়তা কই? দিলে তো আগেই দিতো?